Saturday, April 18, 2020

অরুণোদয়

অরুণ অনেকদিন পর ভোরবেলা দৌড়তে গেছিলো।
এখন তো রাস্তাঘাট ফাঁকাই থাকে। ইতিউতি লোকজন বাঁচিয়ে, কিলো ছয়েক দৌড়ে ফিরে অরুণ সবে দম নিচ্ছিলো বাড়ির গলির সামনে দাঁড়িয়ে।

এমনি সময়ে পাড়ার কুকুরগুলো ল্যাজ নাড়িয়ে ছুটে এলো।

না, অরুণের দিকে নয়।

রাস্তার ওপারে, কিছুটা দুরে বসে থাকা এক মহিলার দিকে।

অবিন্যস্ত চুল, অনেকদিনের না ধোয়া। গায়ে একটা ময়লা কালচে-সবজেটে জামা, আর তার উপর আরো কালচে একটা অ্যাপ্রণ জাতীয় জিনিস। পাশে একটা প্লাস্টিকের লাঠি।

মহিলা একটুক্ষণ তাকিয়ে দেখে, জামা আর অ্যাপ্রণের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে বার করল একটা আধখাওয়া বিস্কুটের প্যাকেট।
কুকুরদের লাঙ্গুলসঞ্চালন আরো জোর হল।
ওদের কিসব বলতে বলতে মহিলা বিস্কুটগুলো ছড়িয়ে দিলো।

অরুণ থমকে দাঁড়িয়ে রইল।

সে নিজেও অনেকবার অনেককে খাবার কিনে দিয়েছে। কিন্তু খিদের মুখে, নিজের খাবার, অন্যকে দিয়ে দেওয়া...

ভাবতে ভাবতে কিছুক্ষণ পরে অরুণ ফিরে এলো ওই জায়গাটায়। হাতের থলিতে একটা জলের বোতল, আর একটা নতুন না-খোলা খেজুরের প্যাকেট।

কই, মহিলা গেলেন কোথায়?

বুকটা ধড়াস করে উঠল অরুণের।
দশ মিনিটও হয়নি অরুণ গেছে!

এদিক-ওদিক তাকাতেই - নাহ, হাসি ফুটে উঠলো অরুণের মুখে।
মহিকা খানিক জায়গা বদল করেছেন - মিটার কুড়ি যাবার পরেই আবার বসে পড়েছেন।

এগিয়ে গেলো অরুণ, হাতের জিনিস নিয়ে, গিয়ে পাশে বসল।

মহিলার মুখে এক অনাবিল হাসি।

জলটা আর খেজুরের প্যাকেটটা এগিয়ে দিলো অরুণ।
সম্ভবত তেষ্টা পেয়েছিলো খুবই, তবু দুঢোক জল খেলেন।
হয়ত বাঁচিয়ে রাখলেন কারুর জন্যে!

ভাষার সমস্যা, তবু দুটো কথাবার্তার পর, ভদ্রমহিলা খুব সঙ্কোচ ভরে জিগ্যেস করলেন, একটু খাবার হবে?

ঝলমলে সকালটাও যেন কেমন বিষাদময়!

হাতের খেজুরটা দেখাতে, খোলার চেষ্টা করলেন। দুর্বল হাত ব্যর্থ হচ্ছিলো বারবার।
অরুণ হাত বাড়িয়ে প্যাকেট টা নিয়ে খুলে, এগিয়ে দিলো আবার।

মহিলা মায়াময় চোখে তাকিয়ে খেজুরের প্যাকেট টা একটু বাড়িয়ে বললেন, তুমি নাও!

অরুণ ফিরছিলো, কিন্তু চারিদিক ভীষণ ঝাপসা হয়ে এসেছিলো।

দুটো খেজুরের প্যাকেটের মধ্যে ও শেষ পর্যন্ত না-খোলা প্যাকেটটাই নিয়ে এসেছিলো - তবুও, নিজেকে ধিক্কার জানানোর ভাষা পাচ্ছিলো না সে।

তবু, প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ রইল।
কাল আরেকবার আসতে বলেছে ওনাকে, সকালে।

ঝাপসা কুয়াশা কেটে সূর্য উঠছে ধীরে ধীরে।

অরুণের মুখে হাসি ফুটে উঠল।

Wednesday, February 26, 2020

The Fourth

Gayam started running, leaving his pot of water made out of gourde skin, rolling at the river bank.

He had already noticed the footsteps on the other side of the river bank - the grey grasses on the slightly wet soil messed up with prominent footsteps!

How many, he had tried to count. Five, seven, twenty?
Gayam didn’t learn to count beyond that! May be his father could!

That's when he had started running towards their home, worried by the thought of his father.

He ran quite fast, although awkwardly, trying to ignore the discomfort due to his permanently deformed set of legs. Ultimately, he is one of the fastest runner among the other few runners of his clan. Many of them are deformed further, by birth!

Their were already a small crowd in front of their cave when he reached there, panting.
And the small crowd grew larger fast, and went berserk when Gayam could tell them what he saw in that morning.

The entire clan started preparing.

The ones who are completely handicapped and incapable of doing anything, were moved back to the rear end of the cave.
Another group of slightly more abled men, lacking one or the other set of limbs, and bogged down by diseases, formed the guard at the entry of the cave.
They will be the supply line for the frontmost row of men.

The rest, around seventeen of them, limped forward towards the range of trees.

Even the trees looked hagged, completely deformed!

The seventeen men had stones and sticks, two of them carrying bow and arrow too. They scrambled atop the trees. And started waiting.

It was a dark night. And eerily quiet.
The sounds of the wild animals and the insects have long been wiped out from the face of earth!

The enemy were spotted at the break of the dawn.
A group of around fourty people, carrying stones and sticks as well, were coming painfully slowly, dragging their deformed limbs, towards the awaiting group in the trees.

Gayam's group also got ready.

After eighty years of the devastating nuclear destructions of the third world war, the last surviving seventy-one people on earth - deformed and mutilated, faced each other in the fourth world war, to kill!



- Translated from the short story "চতুর্থ", written by Somnath Chattopadhya, published in his book "আণবিক".

For those who want the original story, here is the link for the required details.

Wednesday, April 3, 2019

Wheeling All the Way

I could see the finish line at far – the flags flowing wildly with the wind. I pushed at the pedals further, pulling all I had in my reserve, every last bit of it. And the wind started whooshing past me, all my sensations narrowed down to the blurred wheel in front of me, and the blurred-out white line of the road.

It all got fuzzy.
.
.
.
One year ago from this day, when we all started our preparation for one of the toughest hilly race of the country, which lasts for three days, and nights, we started with pure energy. It's not a very easy task to keep the same momentum for an entire year, and the year passed by with highs and lows, and we flactuated between energy and apprehension. But the one thing that was constant throughout this preparation phase was the determination.

Someone once said, you can not be motivated every day, and in those days, discipline takes you forward.

It's the same discipline that made us going while the unexpected happened.

Nothing goes all planned in life, and sports is part of life. That's why it was purely shocking when I toppled with a fraction of second's decision of braking, and ended up in a thorny bush, dangling 10 meter from the diving edge of Sahyadri. That's why Tamal went into an asthmatic attack with the tension of that incident.

Life never goes planned.

But a true sportsperson's spirit is to refuse to give up.

We never know what's lie ahead of us, what's our future. But then, why not create it, if you want to be certain. And that's exactly we had to do at the moment of crisis. Bravery was the only option at that time, and oh boy, bravery was what all showed. The rushing crews, the fanatic co-riders, and the human spirits all around, we were ready in the next 15 minute.

15 minute behind the race, and an unfathomable amount of psychological uphill to climb.

We raced on.

Days were hot, burning the scratches from the thorns, and the nights were cooler, providing reliefe – I told you, life is all ups and downs.

It was a race against time, a race against our own mental barriers. But we fought together.
.
.
.
I refocused on the road, wheeling like a rocket.

A few more meters to go – a hundred, two-hundred? There was no one in front to chase, it was just me and the finish line.

I looked back.

I smiled.

And then I was home.

Saturday, January 12, 2019

ফোনবুক

সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ফোনটার দিকে আরেকবার তাকালেন অমিয়বাবু।

বারান্দা থেকে সকালের হালকা আলো এসে পড়েছে ফোনটার উপর।

গত সপ্তাহ অবধি বলেছে নম্বরটা সুইচড অফ।

অমিয়বাবুর কলেজের বন্ধু, তমালের।

এর আগে শেষ এরকম হয়েছিল স্কুলের বন্ধু অসীমের ক্ষেত্রে, প্রায় মাসখানেক অপেক্ষা করতে হয়েছিল!

আর ভাস্করের জন্যে, দিন দশেক। ভাস্করের ছেলে বাপের মতই নিয়মনিষ্ঠ, কাজ ফেলে রাখত না একদম।

ফোনটা হাতে তুলে নিলেন অমিয়বাবু। 

ডায়াল করলেন আরেকবার, গত সপ্তাহে করা তমালের নম্বর।

...

অসীমের ক্যান্সার হয়েছিল, ছ'বছর আগে, লাস্ট স্টেজ। ভাস্করের অফিস ক্যাব, বম্বে রোডে ট্রাকের সাথে হেড-অন কলিশন করে, দু'বছর হল।
...

সেকেন্ড দশেক পরে হাসি ফুটে উঠল অমিয়বাবুর ঠোঁটের কোণে। 

ফোনের থেকে শোনা যাচ্ছে - "এই নম্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই..."।

ফোনটা হাতে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখলেন চোখের সামনে। তারপর, কয়েকটা ট্যাপ করে মুছে দিলেন বন্ধুর নম্বর।

ফোনের স্ক্রীনে কালো অক্ষরে ফুটে উঠল কয়েকটা শব্দ - " ইয়োর ফোনবুক ইজ নাউ এম্পটি"।

Monday, July 9, 2018

ঘুরপাক

দুপুরের নরম রোদটা পড়েছিল খাটটার উপর, বারান্দার খোলা দরজা দিয়ে।

সেদিনও এরকমই ছিল না, দুপুরটা?

চড়ুইগুলো খাবার খেয়ে গেছিল কিছুক্ষণ আগেই।

বারান্দায় কিচিরমিচির গুলো বন্ধ হবার পরে তখন নিঃশব্দ চারিদিক।

শুধু ঝিরঝিরে পাতার শব্দ ছিল, সুপুরি গাছটার।

কঙ্কালসার শরীরটা বিছানায় মিশে গেছিল প্রায়।

হালকা শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ ছিল একটা।
.
.
.
ঝিরঝিরে পাতাগুলোও থেমে গেছিল আর খানিক পরে।

কালো মাকড়সাটা ঘর পেরিয়ে চলে গেছিল বারান্দায়।

শুধু একটা প্রশ্ন রয়ে গেছিল - "আমি এখন কি করি!"
.
.
.
আজও ঘরময় ঘুরপাক খায়, প্রশ্নটা।

চড়ুইগুলো আর আসেনি।