Saturday, December 19, 2015

The Way You See It

The doorbell rang, and I cursed that damn over-active person who invented electricity!!

I was feeling quite relieved that our cook decided to bunk her duty today, otherwise the doorbell would have slapped me off my bed almost two hour earlier than now. I looked at the clock, and after half-a-minute of trying to focus and re-focus my eyes at that, I was pretty certain that my clock hands were pointing at the 9 o'clock!

I tried hard to feel guilty for waking up so late, but the stupid guilt goes to vacation on almost every Saturday, and never comes back before the irritating Monday morning. Damn, I am spoilt!!

So, I just went back to the bed, and started enjoying the luxurious “nothing-to-do” state. But, you know, I told you that an insane person had invented electricity a long ago, and there have been many more consequent inventions, and one such is called internet. So, I picked up my phone and turned on my WiFi – not my fault, you must understand - It's called “progress”!!

The first thing we all do now-a-days is to check how others are doing, from such platforms where it's impossible to understand how they are doing!! Humans!! But, you know, we are social animals, and thus, to make sure I am a part of it, I opened WhatsApp to waste my time further.

And this whole time, from forcefully being waked up in the morning to this how-to-spend-my-time moments, I was wondering if I would have the power to slow down the time so that I can waste more time at my leisure. And the only person who can stop time, or in that matter stop a lot more things, in our generation, is the great Rajnikant. And coincidentally, it was Rajnikant's birthday.

And, it was also the birthday of two more persons who are very close to me. One of them is now out of my reach, where I can't wish him a happy birthday in person, so, I browsed my WhatsApp contact list to wish the other person a very happy birthday.

And, when I opened the contact, his WhatsApp status surprised me! It read - “At a juncture where birthdays mean a year less to live”.

Well, there are three kinds of words for me – one that just goes past me, no impacts; another that makes me think, deeply sometimes; and the final one is the one which holds me at one place, dumbstruck, and shakes me at my root after I regain sense.

And those words fell into the second category.

We are from that lucky generation where birthdays are documented and remembered by a lot of persons around us, for various different reasons, and celebrated in many different ways, in more than one time. The generation of our parents were not that lucky, or unlucky, in this matter, and the generation of our grandparents is the one when no one bothered about even remembering birthdays! How cool!

Being a part of the last generation after which humans started evolving towards robots, I have experienced my birthdays to be special and celebrated every year, in a human way. From my 5th birthday to 10th, I guess my birthday celebrations meant my mother cooking me my favourite dishes, my grandma doing the same with another set of my favourites – I am not going to focus on what happens on the next day – and my dad gifting me a sports item that I thought I secretly dreamt of. And yes, the 5th and 10th ones also experienced a bunch of my friends gathering at our home, enjoying the lunch and a one-and-a-half hour of cinema session by watching an animation flick. Bliss!! Well, the next 10 years, the core activities remained same, my glutton nature growing more and more strong every time. Well, of course there were other celebrations as well – different in school days, different in college days and different in work life. The type of celebrations changed, however, the fun never subsided!

It was not until around 25 may be, when the thought of “ageing” first crossed my mind. Was it early?

And it was not until very recently that it dawned on me that birthdays are, in a very obvious and plain way, linked with death as well.

Well, maybe I am getting older, or getting wiser, or both! And probably that is the reason that I have already got this on my own recently, those words fell into the second category, not in the third.

But nonetheless, it made me think.

The words that were troubling me the most were “a less year to live”. And thus, the most important question I was searching the answer for was how do I know how many years I am going to live!

My friends around me knows that I am quite a philosophical person sometimes, spreading a lots of “gyan”!! And one of them is so irritated with my “gyan” that she wants to kill me every time I open my mouth, even to take a bite of my food!!
But yes, I am quite experienced when it comes to “life”. Dealing with happiness, sadness, pleasantness and unpleasantness, and so on.
But I am not an expert when it comes to “death”!

So, I am not sure about when we will die. And therefore, I couldn't calculate (though that's nothing to do with my absolute incapability with mathematics) how much more or how much less we are going to live as I don't know the last day, I couldn't subtract.

Although I didn't get the answer of the question, however, I got another insight while searching for the answer.

We may not know how long we live, or when we die, but a single day spent on the thought of that is a day less to live.

The sun will rise, and set, the moonlight will mesmerise the lovers who could never be together, the gentle breeze will nourish the green grasses which have seen many journeys on many directions – and all these will continue even after we cease to exist.

It's one life, it's ours to spend, it's ours to spend well – so that when we go, we will never be able to count our lives in days, rather we could remember it as a bundle of memories and moments.

“At a juncture where birthdays mean one more year of existence”.

Saturday, October 10, 2015


গোল, খসখসে, খয়েরি রঙের থালা। উপরে একটা গোল করে কাটা কলাপাতা – সবুজ, লম্বা লম্বা হালকা দাগ তাতে। তার উপর একটু সাদা দানা দানা গুঁড়ো – একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আর একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি সবুজ-হলুদ ফালি।

ব্যাস, যথেষ্ট।

আতান্তরে পড়লেন তো? ভাবছেন – ভাট বকছে এ ছোকরা!

না, ঠিক সেরকমটি নয় এক্ষেত্রে - ব্যতিক্রম বলতে পারেন।

আচ্ছা, খোলসা করি।

বেশী নয়, হালকা করে বছর ১৫-১৮ পিছিয়ে যান। আরে, স্মৃতির সরনী বেয়ে।

হ্যাঁ – গ্যাছেন?

বাহ, বেশ।

এবার ভাবুন, ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরম, স্কুলে সবে ছুটি পড়েছে, সন্ধ্যে হলেই বাড়িতে তিষ্ঠোবার যো নেই – মশার কামড়ে, বাইরে দিনরাত নির্বিশেষে কুকুরদের জৈবিক চিৎকার – ঠিক এইরকম সময়ে আপনার পাড়ার বছর বত্রিশের টুকুন দির বিয়ে লাগল। পাড়াশুদ্ধু ঝেঁটিয়ে নেমন্তন্ন। আপনি সন্ধ্যে থেকে টেরিলিনের জামাটা ইস্তিরি করে রেখেছেন, আর সুতির ফুলপ্যান্টুলটা জল মেরে চেষ্টা করেও আদ্ধেক ভাঁজ সোজা করতে পারেননি। সন্ধ্যে ৬ টা থেকে পাক্কা চল্লিশ মিনিট টেরি বাগাবার চেষ্টা করেও মাথার মাঝের খাড়া হয়ে থাকা একগোছা চুলকে পাট করতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর তার জন্যে নিজের প্রায় কদমফুলের মত করে কাটা চুলের গুষ্ঠির পিন্ডি উদ্ধার করেছেন। শেষে, বাইরে থেকে গজা, ভুঁদু, লুচি আর রাজুর ক্রমাগত গালাগালি সহ্য করতে না পেরে “নিকুচি করেছে” বলে বেরিয়ে এসেছেন।

প্রায় ৭ টা বাজে-বাজে দেখে চার বন্ধুতে গিয়ে সেঁধিয়েছেন বিয়েবাড়ির ভেতরে। উপহার দেবার হ্যাপা নেই, কারণ সেটি বাড়ির বড়দের দায়ীত্ব, আপনি ঝাড়া হাত-পা। একটু চারিদিকে দেখেশুনে, অত্যন্ত সাজগোজ করা রুপসী অপ্সরাদের তাচ্ছিল্যভরা চাহনির সামনে অত্যন্ত বিব্রত বোধ করে যেই না একটু বাইরে বেরিয়ে এসে হাবুল-দের রকে বসে একটু পেপসি খাবেন বলে ভাবছিলেন চার বন্ধু, অমনি বিপদ।

“এই যে, তোমরা – এসো এসো, খেতে বসে যাও, খেতে বসে যাও, ব্যাচ ফাঁকা যাচ্ছে যে” – টুকুন দির বড্ড-বাজে-বকা জ্যেঠু দেখে ফেলেছেন। মহা চিত্তির। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার সময়ে কোন বাঙালী রাতের খাবার খায়!! এখন তো খিদেটাই জমে নি। খেতে বসলে তো ফুল লস!! কেটে পড়বার ধান্দা খুঁজতে খুঁজতেই আবার তাগিদ – এবং প্রায় জোর করেই খেদিয়ে দেওয়া খাবার জায়গার দিকে।

একে তো ভ্যাপসা গরম, তায় আবার খাবার জায়গায় দুটিমাত্র পাখা চলছে – যদিও সেই পাখার সাইজ দৈত্যাকার – কারুর ওজন ৩৫ কেজির কম হলে তাকে হাত ধরে পাখার সামনে দিয়ে পার করানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ, নইলে উড়ে গিয়ে কারুর কোলে গিয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। এদিকে আপনি তো টেরিলিনের বাহারি জামার মধ্যে কুলকুল করে ঘামতে শুরু করে দিয়েছেন অনেক্ষণ আগে থেকেই, আর সেই ঘাম গড়িয়ে গড়িয়ে নামছে মাধ্যাকর্ষণের অমোঘ আকর্ষণে – নিচের দিকে। আপনার বেশ আসোয়াস্তিসূচক একটা সুড়সুড়ি অনুভব হচ্ছে তাতে, কিন্তু আপনি না পারছেন তাতে হাসতে, না পারছেন একটু চুলকে নিতে। এমতবস্থায়, অত্যন্ত অস্বস্তি সহকারে আপনি বসলেন কোনের টেবিলে – যেটি পাখা থেকে সবথেকে দূরে। বাকি সবাই আগে এসে পাখার অবস্থান বুঝে জায়গা করে নিয়েছেন, আর আপনারা চার বাঞ্ছারাম, “খালি ব্যাচ” ভর্তি করতে গিয়ে কোনের টেবিলটাই পেয়েছেন। আপনার বন্ধু, ভুঁদু, একটু মোটা, এই ৯৮ কিলো মত, আর বেশ ঘামে। আপনি দেখলেন যে সে টেবিলে হাত রেখে বেশ বিদ্ধস্ত অবস্থায় একটি মিনি-গামছা দিয়ে ঘাম মুছছে। তারপর যখন সে হাতটি টেবিল থেকে সরালো, দুই কনুইতে জামার হাতায় বেশ বড় বড় দুটো কালো ছোপ আপনি দেখতে পেলেন। এরপর নিজের কনুইয়ের দিকে তাকাবার সাহস আপনার হয়নি।

এত বড় একটা ঘর্মাক্ত বিবরণ দেবার কারণ আশা করি বুঝতে পারছেন! এই অসহ্য অবস্থায় আপনারা কেউ কোনদিন পড়েননি বললে আমি মানবো না।

কিন্তু, এই ভয়ানক বিরক্তিকর ব্যাপারগুলোর পরেই হয় সেই ব্যাপারটা।

বুঝলেন না?! ওই যে, গোল গোল, খসখসে, খয়েরী রঙের থালা!

দুটো “A” আকৃতির ডান্ডার উপর অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে দাঁড় করানো একটা বহু-ব্যবহারে দাগ ধরা প্লাইউডের তক্তার (পড়ুন টেবিলের) উপর এসে যখন ওই বস্তুটি পড়ত, এতক্ষণের সমস্ত গা-কুটকুটে বিরক্তি এক ঝটকায় উড়ে যেত। এতক্ষণের যত ঘাম আপনার টেরিলিনের জামা শুষেছে, আপনার মনে হত এবার দে হতচ্ছাড়া, দেখ এবার আমি কত শুষি আমার পেটে!

কিন্তু সেটাই আসল ব্যাপার নয়।

মনে করে দেখুন – সুন্দর পাতা পাতা গন্ধ ওঠা থালা পেয়েছেন, সোঁদা গন্ধওলা মাটির ভাঁড়ে জল পেয়েছেন, সাদা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতও পড়েছে পাতে, ডাল, মাছের পেটি, পাঁঠার মাংসের গোটা নলিটাও আপনিই পেয়েছেন – তাও আপনি অনেক্ষন থেকে রাগতভাবে খোঁজেননি পরিবেশক ছেলেটিকে, আর তাকে বলেননি – “দাদা, নুন আর লেবুটা দেননি – দিন!!”?

এইরকম কিছু জিনিস থাকে আমাদের সবারই – যেগুলোর জন্যেই বাঙলা অভিধানে ওই “অপরিহার্য” কথাটি ঢুকেছিল।
আমার কাছে সেইরকম একটা জিনিস হল - পাঁপড়।

ছোট থেকেই, খাবার ব্যাপারে আমি বেয়াড়া। এটা খাবো না, সেটা খাবো না তো ছিলই, তার উপর ওই শাক-কুমড়ো-লাউ-বেগুন-মুলো আমি খেতুম না। তবে হ্যাঁ, তাবলে এরকমও ছিল না যে মাছ-মাংস ছাড়া আমার মুখে রুচত না। এই এট্টু গরম ভাতের সাথে ঘি, আর ডাল হলেই আমার চলে যেত।

আর এই সাধারণ খাবারটাই একটা অসাধারণ মাত্রা পেত যদি সঙ্গে থাকত কিছু পাঁপড়।

আমাকে পাঁপড় বিশারদ বললে অত্যুক্তি হবে না। পাতি ডালের পাঁপড় দিয়ে আমার এই পাঁপড়ভক্তির শুরু – তখন ছিল সেই “লিজ্জত” পাঁপড়। তারপর আস্তে আস্তে মশলা পাঁপড়, চালের পাঁপড়, সাবুর পাঁপড় থেকে উত্তরণ ঘটতে ঘটতে চিংড়ির পাঁপড় অবধি পৌঁছেছিলাম খুব অল্প সময়তেই। তবে হ্যাঁ, আমার কিন্তু ওই “স্বাস্থ্যকর” সেঁকা পাঁপড়ের প্রতি কোনো আকর্ষণ ছিল না। একটু তেলে চুবিয়ে ভাজা হবে, সেই তেলগুলো একটু গড়িয়ে পাত্তরের তলায় যদি লেগে নাই থাকল, তাহলে আর পাঁপড় খাবার মানে কি!! ওসব সেঁকা-টেকা খাবে ওইসব সিড়িঙ্গে মেয়েরা, আমি কেন! ছোঃ!

আর এই করতে করতে আমার পাঁপড়প্রেম এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে আমাকে অনেকে এরকম ঠাট্টাও করেছেন যে আমি নাকি জল খেতে গেলেও পাঁপড় দিয়ে খাই! এবং অনেক আত্মীয়ের বাড়ি ছিল, যেখানে আমি কোনদিন বেড়াতে গেলে, তারা আমার জন্যে আলাদা করে পাঁপড় আনতেন দোকান থেকে। কি বিড়ম্বনা বলুন দেখি!!
তবে কেন জানি না, এই সাবুর পাঁপড়ের প্রতি আমার একটা আলাদা নির্লজ্জ আকর্ষণ আছে। আহা, বড্ড ভালো খেতে। ভাত-ডালের সঙ্গে খাও, মাছের সঙ্গে খাও, মাংসের সঙ্গে খাও, ডিমের ঝোলের সঙ্গে খাও, বিকেলে খিদে পেলে শুধু শুধু খাও, এমনকি একটু ইয়ের সঙ্গে কিছু টিয়ে না থাকলে সাবুর পাঁপড় দিয়ে খাও – সর্বঘটের কাঁঠালী কলা নয়!!

আসলে, এত কথা বলে ফেললুম কারণ, আজ সন্ধ্যেবেলা সাবুর পাঁপড়ের শেষ ভাজা টুকরোটা খেতে খেতে ভাবছিলাম যে যদি সাবুর পাঁপড় পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় এখন, তাহলে আমার কি হবে!! বেশ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম এই ভেবে। এরকম একটা অপরিহার্য বস্তু বিদায় নিলে কি বিষম বিপদ বলুন দেখি!

অদ্রীশ বর্ধনের গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র, সাড়ে পাঁচটা থেকে ছ’টার মধ্যে হুস করে বেরিয়ে যাওয়া সোনালি বিকেল, গঙ্গার পাড়ে ভাটার সময়ে পড়ে থাকা পলিতে মাছের অপেক্ষায় বসে থাকা সাদা বক, সন্ধ্যের মুখে হালকা আলোয় সাইকেলে করে চলে যাওয়া কিশোর-কিশোরী, ফুটবল খেলার শেষে মাঠের ধারে বটগাছের নিচে বসে আড্ডা, স্কুলের পরে টিউশনের ব্যাচে চোখাচোখি আর ভেঙে যাওয়া প্রেম, বাপ-মা-দাদা-দিদি দিয়ে ঘিরে থাকা পরিবার, বনধের দিনে বড় রাস্তা জুড়ে পাড়ার বড় থেকে বাচ্চা – সবার ক্রিকেট খেলা, মায় বাঙলার গর্ব প্রোফেসর শঙ্কু – এ সবই তো একদিন অপরিহার্যই ছিল।

পাঁপড়ও নাহয় সেরকমই একদিন...

নাঃ, কাল শঙ্করের মুদির দোকানের লিস্টিতে পাঁপড়টা যোগ করে নিতে হবে।

আর নয়ত... “এই নমিতাআআআ, যা তো বাবা একটু সামনের মুদির দোকানটায়, এক প্যাকেট সাবুর পাঁপড় এনে দে, তারপর এসে ঘরটা মুছিস আবার!”

Wednesday, July 15, 2015

ইচ্ছেগুলো যত

অদ্ভুত সব ইচ্ছেগুলো, না সাদা না কালো
ওলটপালট ঘুরছে যত
গাছের পাতা ঝরছে তত
তবু বলছে, ইচ্ছেগুলো, পাগল হওয়াই ভালো

বরফঢাকা প্রান্তর, আর সামনে পাহাড় জঙ্গল
পথচলা পথ ক্লান্ত
দিতে চায় আজ ক্ষান্ত
তবু ধিকি ধিকি করে জ্বলছে আগুন, হবে কি কখনও শান্ত?

ফিরে যেতে চায়, ডুবে যেতে চায়
ওই হালকা আলোয় ভেসে থাকা মুখ
ছিঁড়ে যাওয়া বুকে ভেসে থাকা সুখ
বার বার শুধু ছুঁয়ে যেতে চায়...

...ওই উষ্ণ কানের লতি

আহ, মন, তুই চুপ করে যা
তুই বড় চঞ্চলমতি

Thursday, May 21, 2015


দিগন্তব্যাপী প্রান্তর
অসীম আকাশ
চারিদিকে বয়ে যাওয়া
দূর্বার বাতাস

ডাল মেলে
একটু হেলে
দাঁড়িয়ে থাকে
ছোট এক গাছ

এক ছোট, সাদা পায়রা
উড়ে যায়, ভেসে যায়
খেলে যায়, কখনওবা
বসে যায়, গাছের ডালে

গাছের পাতাগুলো
ঝিরঝির করে দুলে যায়

অশান্ত ঝড়ে
আকাশ ভেঙ্গে পড়ে
সাদা পায়রা
এসে বসে ডালে
পাতাগুলো সস্নেহে
ঢেকে রাখে

দুর্যোগের রাতে
শনশনে হাওয়া
শ্বাপদসংকুল এ জগৎে
গাছের ডালে বসে
দিন কেটে যাওয়া

এভাবেই চলত
কিন্তু আগাছাগুলো বলত
কেন রে পায়রা
গাছের ডালে বসবি?
ও ডাল তো খারাপ
আয়, আমাদের মাঝে রইবি

তিরতির করে
কেঁপে যাওয়া গাছ
যেন বলে
যা পায়রা, উড়ে যা

আস্তে আস্তে
শুকিয়ে যাওয়া গাছ

তবু মেলে রাখে ডাল
যদি কোনদিন
এসে বসে
সাদা পায়রা
যদি, আবার হয় সকাল

Monday, May 11, 2015

একফালি রোদ

“আজকাল এত যে কি ভাবো তুমি, দাদা!! সেই কখন থেকে বইটা মুখের সামনে খুলে বসে আছো, পাতাটা পর্যন্ত উল্টোওনি।”

দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বইটা ভাঁজ করে পাশের ছোট টেবিলটায় রাখলাম। আর পড়া হবে না এমনিতেও, ঝুমুর বকতে শুরু করলে ক্ষান্তি দেবে না।

ঝুমুর আমার ঘরের বারান্দায় রাখা অনেকগুলো গাছের মধ্যে একটা ছোট বনসাই ঝাউ গাছ। বছর চারেক হবে ওকে লাগিয়েছি এখানে। গাছের সঙ্গে কথা বলাটা হয়ত ভীমরতিই হবে, তবে বয়েসও তো হয়েছে। এই সামনের মাসে ৪৭ হবে।
তবে, আজকাল আর অত ভাবিনা, ভীমরতি হলেই বা আর কি করা যাবে।

“না ভেবে আর উপায় কি, নাহলে তো তুই বকে বকে আমার কানের পোকা বার করে দিবি”।

“ওওও, আমি তো শুধু বকি, তাই না!! এখন তো বলবেই!”

ঝুমুরের হাবভাব অনেকটা ছোট বোনের মত, বেশ বকাবকি করে, আর মাঝে মাঝে এরকম মান-অভিমান দেখায়।

কয়েক সেকেন্ডের জন্যে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম বোধহয়। ঝুমুরের কথায় সম্বিত ফিরল।

“দাদা, মিচকি মিচকি হাসছো কেন বলতো?!”

নিজেই খেয়াল করিনি কখন যেন ঠোঁটের কোনে অজান্তেই হাসি লেগে গেছিল।

ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বললাম, “কিছু না রে, এমনি”।

ঝুমুরের বয়েস বছর সাড়ে চারেক হলে কি হবে, সে মহা পাকা। গাছেদের ক্ষেত্রে সাড়ে চার খুবই অল্প বয়েস হবার কথা। কে জানে, এঁচোড় পাকাই হবে বোধহয়।

একটা ব্যাঁকা হাসি হেসে ঝুমুর বলল – “কিছু না বললেই হল!! আমি সব বুঝি।
বলো না, কারুর কথা মনে পড়ল বুঝি?”

মনে পড়া!!

নিজের মনেই হাসলাম। মনে তো তখনই পড়ার প্রশ্ন আসে যখন লোকে ভুলে যায়।

কিন্তু ঝুমুরকে এত কিছু বুঝিয়ে লাভ নেই। আজ বোধহয়, কেন জানিনা, ঝুমুরের ওই ছোট্ট কথাটায় মনটা অনেকদুর চলে গেছিল।

তাই বললাম, “হ্যাঁ, তা পড়ল। অনেকদিন আগে, আমার এক বন্ধু ছিল। তার কথা ভেবে হাসলাম।”

“তাই?? তা সে কিরকম বন্ধু ছিল গো? খুব কাছের বন্ধু?”

কঠিন প্রশ্ন।

মানে, ঠিক কঠিন নয়, কিন্তু সমস্যাটা এই যে উত্তরটা চট করে কাউকে বোঝানো খব মুশকিল, তাই কঠিন।

বললাম, “কিরকম বন্ধু, কি করে বোঝাই বলত? বোঝালে কি তুই বুঝবি?”

বনসাই ঝাউগাছটা দেখলাম একটু ডানদিকে হেলে গেল সামান্য। ঝুমুর বোধহয় গালে হাত দিয়ে বসল, ইন্টারেস্ট পেয়েছে নিশ্চই।
নিজের মনেই একটু হেসে আবার বললাম।

“তোর এই রাগ করা দেখে মনে পড়ল, সেও এরকম কথায় কথায় খুব রাগ করত আর ঝগড়া করত। বাচ্চাদের মতই।”

“ওয়াও, খুব ভালো বন্ধু তো গো দাদা!!?” – ঝুমুরকে খুব উত্তেজিত দেখালো।

“ভালো কি মন্দ বলতে পারব না, তবে মাথার সব চুল তুলে দিয়েছিল বটে আমার। প্রচন্ড রেগে যেত যদি তার একটুও মনে হত যে আমি কাউকে তার থেকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। একদম ক্ষেপি।”

কেমন যেন মনে হল ঝুমুর জিভ কাটলো।

আকাশটা সকাল থেকেই মেঘলা। চারিদিকে কেমন যেন গুমোট ভাব। মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকালাম। দুটো কাকা উড়ে গেল কা কা করতে করতে। রাস্তার ধারের কৃষ্ণচুড়া গাছটাতে অনেক ফুল হয়েছে, ঠিক যেন আগুন লেগেছে সমস্ত গাছটাতে।
ঝির ঝির করে কেঁপে উঠল পাতাগুলো, মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে, অনেকদিন পরে।

“কতদিন আগের কথা গো দাদা?”

চটকা ভাঙ্গল ঝুমুরের কথায়। বেচারা অনেক্ষণ চুপ করে ছিল, ভাবছিল আমি কিছু বলব, কিন্তু তারপর  আর ধৈর্য ধরতে পারেনি বোধহয়।

কতদিন আগে?
সময়ের হিসেব কি করে করি, যেখানে সময় থমকে আছে আজও!

ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তা হবে, আমি তখন ৩১-৩২ হব”।

ঝুমুর খানিক্ষণ চুপ করে থেকে জিগ্যেস করল – “তোমরা খুব গল্প করতে নিশ্চয়ই?”

“হুম, তা তো করতাম”

“কি গল্প গো, বল না”

“গল্প আর কি!! যেরকম সবাই করে সেরকম গল্প”

“দূর বাবা, এ তো আচ্ছা মুশকিল হল, গলায় কি ব্যাঙ ঢুকেছে নাকি!!” – ঝুমুরকে বেশ রাগান্বিত মনে হল।

আমি হেসে বললাম, “আচ্ছা ঝুমুর, সে গল্প কি আর একটা রে, কি করে বলি বলতো? সে অনেক গল্প, তার না আছে কোনো মাথা, না আছে কোনো মুন্ডু। বকতে বকতে যে কখন সময় পেরিয়ে যেত টেরই পেতাম না। কখনও কাজের গল্প, কখনও বইয়ের, কখনও গানের, কখনও খাবারের, আবার কখনও আমার গল্প, তার গল্প, আমাদের গল্প, বৃষ্টির গল্প, রোদ্দুরের গল্প, সবুজ উপত্যকা বা রুক্ষ মরুভুমির গল্প।”


কখন হালকা বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছিল খেয়ালই করিনি। গালে হালকা জলের ছিটে লাগতে বুঝলাম। ঝুমুরের পাতাগুলোও ভিজে গ্যাছে একটু, টুপটাপ করে জল পড়ছিল ওর পাতাগুলো থেকে।

অনেক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম। কতক্ষণ সময় কেটে গেছিল তার খেয়াল ছিল না। ঝুমুরও কোন কথা বলেনি এতক্ষণ। কি ভাবছিল কে জানে!

“আসলে, আমি বোধহয় ভালো বন্ধু ছিলাম না।”

“কেন?” – ঝুমুরকে একটু গম্ভীর লাগল।

“ভালো বন্ধু তো তার বন্ধুকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, দ্বিধায় ফেলে পেছনে টেনে ধরে না”

“কেন, তুমি কি পেছনে টেনে ধরেছিলে?”

“সেটা ঠিক জানি না, তবে দ্বিধায় ফেলেছিলাম এটা নিয়ে তো কোন সন্দেহ নেই”

ঝুমুর আর কিছু প্রশ্ন করল না এটার পর। এত কঠিন কথাবার্তা শুনে ঘেঁটে গিয়েছিল বোধহয়।

আমিও ভাবছিলাম, কেন তৈরি হয়েছিল দ্বিধা।

এ পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ যখন অন্যদের সঙ্গে মেশে, কথা বলে, তাদের মধ্যে অনেকগুলো স্তর থাকে। আসল মানুষটা, যে সবসময় একটা সাদাকালো চরিত্র, সে কখনই বাইরে আসে না। তবে, কখনও কখনও, খুব কম ক্ষেত্রে, কখনও কেউ কেউ পেয়ে যায় এমন কাউকে, যার সামনে সেই আসল মানুষটা বেরিয়ে আসতে পারে নির্দ্বিধায়। আর তখন, সেই দুটো মানুষ জুড়ে যায় এমন একটা মনের স্তরে, যেটা অবিচ্ছেদ্য, আর চিরকালীন।
কিন্তু এই স্তর তো শুধু সেই দুটো মানুষের জন্যে, আর কেউ বোঝে না তার অস্তিত্ব। আর, সত্যিই তো, পৃথিবীটা তো আর শুধু দুজন মানুষকে নিয়ে চলে না।

“কি হয়েছিল, তারপর?”

“কি আবার হবে? হবার আছেটা কি এর মধ্যে?”

“নেকামো কোরো না!! আমি জিগ্যেস করছি কি হল তোমার বন্ধুর, তারপর?”

“শোন ঝুমুর, জীবনে এগিয়ে যেতে গেলে পুরোনো জিনিস অনেকসময় ফেলে দিতে হয়, বোঝা কমাতে হয়, কেটে ফেলতে হয় পুরোনো সম্পর্ক, যা কাউকে পিছনে টেনে ধরে।”

“বাহ, ছেড়ে চলে গেল?!”

“আহ ঝুমুর, বাজে কথা বলিসনা, এর মধ্যে ছেড়ে যাবার কি আছে!! যেটা বুঝিসনা সেটা নিয়ে কথা বলিস কেন?”

একটু বেশীই ঝাঁঝিয়ে বলে ফেলেছিলাম কথাটা। খারাপ লাগল ঝুমুরকে চুপ করে থাকতে দেখে।

তাই একটু পরে বললাম, “আচ্ছা চল, আমি আবার একটু বইটা পড়ি, বুঝলি?”


“থাকো তো একা, সেরকম কাছের বলতে কেউ নেই তোমার, কেউ কিছু পাঠায়ওনা তোমাকে, ওই মোটা কালো ফ্রেমের চশমাপরা দাদু শুধু মাঝে মাঝে ইমেল করে তোমাকে, আর ওই দুটো ছোঁড়াছুঁড়ি, ওই কি পিং না টিং কি বলে – সেসব করে, তাহলে, প্রতি বছর ১৩ ই জুন নিয়ম করে লেটারবক্সের চাবি খুলে কি দেখো?”

একটু হাসলাম, কিন্তু আর বললাম না ঝুমুরকে, যে, ওই একটাই এক্সপেক্টেশন আজও রয়ে গেছে। এটা একমাত্র একজন ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।

মুখের উপর একটা হালকা রোদ এসে পড়ল। মেঘ সরে গিয়ে রোদ উঠেছে। আর গুমোট নেই চারিদিকে।
পাশের বাড়ী থেকে কেউ একটা গান চালিয়েছে। জন ডেনভার গাইছেন...

“Sunshine, on my shoulders makes me happy
Sunshine, in my eyes can make me cry
Sunshine, on the water look so lovely
Sunshine, almost always makes me high”

Saturday, May 9, 2015

হয়ত কোনোদিন


আপনি যদি একটু চালাক-চতুর গোছের লোক হন, তাহলে লক্ষ্য করে থাকবেন, যে, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে, বেড়াতে যাওয়াটার থেকে, বেড়াতে যাব-যাব – এই আদেখলাপনা ভাবটা বেশী উত্তেজনাপূর্ব। অনেকটা, ওই চুমু-টুমু খাওয়ার আগের মূহুর্তগুলোর মত, যেটা আসল ব্যাপারটার থেকে সাধারণত বেশী ইয়ে হয় আরকি।

এই, দেখেছেন তো, কোথা থেকে কোথায় চলে গেলাম!! এই হয়েছে আজকাল, মধ্য-বয়েসের ইয়ের দোষ। একটু মার্জনা করে নেবেন, কারণ উপমাটা না দিলে সব পাঠক না বুঝতে পারতে পারেন, কারণ সবাই তো আর জীবনে বেড়াতে যাননি, তবে ইয়েটা করেছেন।

যাই হোক, আবার বিষয়ে ফিরি একটু।
তো, এইরকম বেড়াতে যাব যাব ব্যাপারটা অনেকদিন থেকেই চলছিল। বেশ গোটা-দশেক লোকজনও যোগাড় হয়ে গেছিল। ট্রেনের টিকেটটা মাঝে মাঝেই দেখতাম ওয়েবসাইট খুলে (এখন মনে হচ্ছে, কি অসহ্য নেকামো মাইরি)। যত দিন এগিয়ে আসতে লাগল, অফিসের কাজ ডকে তুলে, ওখানে গিয়ে কি কি করা হবে তার বেশ কিছু হাস্যকর (তখন মনে হয়নি যদিও) প্ল্যানও বানিয়ে ফেলা হল। উৎসাহ যখন চরমে উঠবে উঠবে করছে, তখন গোটা চারেক উইকেট পড়ে গেল ঝপ করে। কিন্তু তখন আর কিছু করার নেই, ওই “একবার ম্যায় কমিটমেন্ট কর দিয়া তো ম্যায় আপনে আপকা ভি নেহি শুনতা” টাইপের রোখ চেপেছে তখন।

এই করতে করতেই, অবশেষে এলো ৩০ শে এপ্রিল। ঝ্যাকাস – আজ জয় মা কালী পাঁঠাবলি -  শুভযাত্রা। ক্যাওড়াতলার হরতাল আর পাহাড়ের কম্পনসহ করতাল – সব উপেক্ষা করে, আমরা পৌঁছে গেলাম হাওড়া স্টেশন। আলাপ-পরিচয়ের পালা সেরে, সেলফি-টেলফি তুলে আর এককাঁড়ি খাবার-দাবার কিনে-টিনে, সে একসা কান্ড।
এই খাবার কেনার পেছনে যে কারণটা ছিল, সেটা না বলে প্রসঙ্গাতরে যাওয়াটা অন্যায় হবে একটু। আমাদের মধ্যে একজন যিনি মহিলা ছিলেন, তিনি বেশ দায়ীত্ব সহকারে এইসব গিন্নিবান্নী টাইপের ব্যাপারগুলো সামলাচ্ছিলেন। তো, তিনি বললেন, চল কিছু খাবার-দাবার নিয়ে নেওয়া যাক। উত্তম প্রস্তাব। গেলুম কিনতে, বেশ কেনাও হল। তারপর আমি বললুম, একটা বান-পাঁউরুটি দাও তো দেখি, খাই। আমার আবার খাই-খাই-টা চিরকালই একটু বেশী। তা, হাত বাড়ালুম বান-পাঁউরুটির দিকে, একটিকে হস্তগত করতে।
“একদঅঅঅম না” – হুস করে খাবারের প্যাকেটটা পিছলে গ্যালো হাতের গোড়া থেকে।
“এগুলো সব এমার্জেন্সীর জন্যে নেওয়া” – বললেন তিনি।
বেশ ঘাবড়ে গেলাম। এমার্জেন্সী শুনলেই আমার কেমন যেন হয়, কারণ আমি সবকিছু বেশ আরাম করে সময় নিয়ে করতেই পছন্দ করি, যাকে আপনারা ল্যাদ বললেও আমি আপত্তি করব না। তাই ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করেই ফেললাম, “কি এমার্জেন্সী?”।
“যদি ওখানে ভুমিকম্প হয়, আর তাতে ধ্বস নেমে আমরা আটকা পড়ে যাই, তখন এগুলোই তো কাজে লাগবে”।
আমি ৩-৪ সেকেন্ড পরে আমার হাঁ মুখটা বন্ধ করে নিলাম। একবার ভাবলাম বলি যে, ওরকম পরিস্থিতি হলে ওই খাবার-দাবারগুলো সঙ্গে নেবার কথা মনে থাকবে কিনা সে বিষয়ে আমার যারপরনাই সন্দেহ আছে, তখন চাচা আপন প্রাণ বাঁচা নীতিটাই একমাত্র মনে থাকতে পারে। কিন্তু যথাসময়ে সুবুদ্ধির উদ্ভব হওয়াতে চেপে গেলুম।

সুতরাং, অবশেষে, আমরা পঞ্চপান্ডব, চেপে বসলাম ট্রেনে।
দিনের ট্রেন, সুতরাং বসে বসেই যাত্রা। প্রকৃতির লীলা আর (অ)রাজনীতির বিলা – এই দুয়ের  কৃপায় ট্রেনটা বিলকুল ফাঁকা ছিল, সুতরাং আমাদের বৈঠকি বসাতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি। তাতে ট্রেনে বাকি যে গুটিকয়েক যাত্রী ছিলেন, তাদের কি এসে-গেল সেটা দেখার মতন কোনো অশুভবুদ্ধি আমাদের কারুর হয়নি।


এই দেখেছেন, বকবক করতে করতে বলাই হয়নি যে যাচ্ছিটা কোথায়! বেশী কথা বলে ফেলি আজকাল। পাঠকগণ, ধৈর্য রাখার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আমরা যাচ্ছি যে জায়গাতে, তার নাম “ভার্সে” বা “বার্সে”। ভাবছেন তো, সে কোন চুলোয়? আমিও ভেবেছিলাম প্রথমবার শোনার পর। একটু অল্পপরিচিত জায়গা এই ভার্সে। সিকিমের একদম পশ্চিম প্রান্তে, কাঞ্চনজঙ্ঘার বেশ কাছাকাছি একটা ছোট্ট খোলা জায়গা, যেখানে জনবসতি বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু দুটো ট্রেকার্স হাট।
শুনে যদি উৎসাহিত হন, খুব ভালো। যদি ভাবেন, যাওয়া যাক পরবর্তী ছুটিতে, এক মিনিট দাঁড়ান।
ভার্সে যাবার আগে দুটো জিনিস আপনার জেনে নেওয়াটা খুব জরুরী বলেই আমার মনে হয়।
এক - আপনি যদি হাঁটতে না পছন্দ করেন, তাহলে ভার্সে আপনার জন্যে নয়। এটা ভাববেন না যে আমি শুধু পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটার কথা বলছি। আমি হাঁটা জিনিসটার কথা বলছি। মানে, ধরুন, আপনার মন বেশ খারাপ, কি করবেন ভাবছেন, একটু পরে বেরিয়ে পড়লেন বাড়ি থেকে, একটু ইতিউতি হেঁটে বেড়ালেন আপনমনে, মনটা ভালো হয়ে গেল। বা, ধরুন, আপনার মন আজ খুব খুশি খুশি, টুক করে বেরিয়ে পড়লেন, গঙ্গার ঘাট অবধি হাঁটলেন, দুটো সিঙ্গাড়া-জিলিপি খেলেন, ব্যাস বাড়ী চলে এলেন। এই জিনিস যদি আপনার পছন্দের জিনিস হয়, কি করলেন সেটা বড় কথা নয়, হাঁটলেন, সেটা বড় কথা, তাহলে আপনি ভার্সে যান। বরং, যাওয়া উচিৎ।
দুই – আপনি যদি কোথাও বেরিয়ে মনে করেন যে কখন পৌঁছব কখন পৌঁছব, আর গন্তব্য আসতে দেরি হলে বিরক্ত হন, ভার্সে তাহলে আপনার জন্যে নয়। আর, আপনার কাছে যদি পথ চলাটাই হয় আসল আনন্দের জায়গা, তাহলে ভার্সে আপনার জন্যে।

সুতরাং, যারা এতকিছু আজেবাজে বিরক্তিকর কথা শোনার পরও ভার্সে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্যে বলি, আপনাকে পৌঁছতে হবে প্রথমে নিউ জলপাইগুড়ি। কলকাতা থেকে অনেকগুলো ট্রেন যায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। যেকোনোটায় চড়ে বসুন। সবথেকে ভালো হয় হাওড়া থেকে রাতের ট্রেনগুলো ধরলে, যেগুলো আপনাকে একদম সকাল সকাল পৌঁছে দেবে নিউ জলপাইগুড়িতে। কারণ, এরপর আপনাকে বেরিয়ে পড়তে হবে বেশ লম্বা একটা সফরে। আপনাকে যেতে হবে “হিলে” নামক একটি ছোট্ট জনপদে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বেরিয়ে, সেবকের হয়ে, তিস্তার পাশ দিয়ে আপনার যাত্রা চলবে। পথে পড়বে “করোনেশন ব্রিজ”, যেটা আপনি পেরোবেন না, বরং যাবেন ব্রীজের পাশ দিয়ে যে রাস্তা চলে গ্যাছে “মেল্লি”-র দিকে, সেই রাস্তা ধরে। এই “মেল্লি” হল সিকিমে ঢোকার একটা প্রবেশপথ। দক্ষিণ সিকিম বা পশ্চিম সিকিমের যেকোনো জায়গায় যেতে গেলে “মেল্লি” হয়ে যাওয়াটাই সুবিবেচনার কাজ হবে। “মেল্লি”-র পর “হিলে” যাবার পথে বড় জনপদ বলতে আর একটিই জায়গা, “জোড়থাং”। পথের শেষ এটিএম, শেষ বড় দোকানপাট, শেষ জনপদ। আপনি যদি একটু পানভোজনপ্রিয় মানুষ হন, তাহলে সেইসব সরঞ্জাম আপনি এই “জোড়থাং” থেকেই সংগ্রহ করে ফেলুন, সিকিম এমনিতেই রঙ্গীন পানীয়ের জন্যে আদর্শ জায়গা।

উফ, এতক্ষণ ধরে বাপু এই শুষ্কং-কাষ্ঠং গুচ্ছগুচ্ছ ইনফরমেশন দিতে দিতে মুখ ব্যাথা, থুড়ি, হাত ব্যাথা হয়ে গেল। এবার আবার বরং গল্পে ফিরি।

আমাদের এই ট্যুরটা ছিল একটা প্যাকেজ ট্যুর। আমাদের পরিচিত অনেকের রেফারেন্সে এক ভদ্রলোকের যোগাযোগ পাওয়া গেল, যিনি এই ট্যুরটা করাবেন। নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছনো থেকে আবার সেখানে ফেরৎ আসা অবধি আমরা নিজেদেরকে তার হাতে সমর্পণ করে দেব, এরকমই একটা চুক্তি হল। ধরা
যাক, ভদ্রলোকের নাম, গড়গড়ি। আমরা তাকে গড়গড়ি দা বলেই ডাকব।

যখন নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছলাম, এই গড়গড়ি দা-র সেখানে অপেক্ষা করার কথা।
কেন জানি না, রেল স্টেশন চত্বরের অত লোকজনের মধ্যে গড়গড়ি দা-কে প্রথমবার চিনে নিতে কোনো অসুবিধা হল না।
মাঝবয়েসী, বাঙালীর অনুপাতে লম্বাই বলা যেতে পারে, ছিমছাম চেহারা, একটা মারুতি ওমনি ভ্যানে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক ভদ্রলোক। ইতস্তত পায়ে কাছাকাছি যেতে, হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। চোখদুটো সাধারণের অনুপাতে একটু বড়ই, আর তার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা আর রসবোধের ছাপ স্পষ্ট। খেয়াল করিনি, আমার হাসিটা আমার অজান্তেই মুখে চলে এসেছিল।

ঝটিতি আলাপ-পরিচয় সেরে, আমরা চটপট রওনা দিলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। শিলিগুড়ি শহরে। সেই রাতটা আমাদের শিলিগুড়িতে কাটিয়ে পরদিন ভোরবেলা গন্তব্যের দিকে রওনা দেবার কথা।

রাতটা বেশ নির্বিঘ্নে কেটে গেল। অনেকদিন পর, বাড়ির বাইরে, বাড়ির চেনা বিছানা ছেড়ে, একটা অন্য জায়গায়, অন্য বিছানায়, অন্য দুজন সহযাত্রীর সাথে হোটেলের ঘরে, এটার একটা আলাদা রোমাঞ্চ আছে – বেশী কাঠখোট্টা হলে যেটা আপনি বুঝবেন না।
পরেরদিন, ভোরভোর তৈরি হয়ে হোটেলের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়ালাম। শিলিগুড়ি শহরটা আমার চেনা শহর নয়, তবে দেখা বটে। সেদিন সকালে যখন আরেকবার দেখলাম শহরটাকে, আরেকটু যেন চিনলাম। একটা আস্তে আস্তে জেগে উঠতে থাকা শহর, রাস্তায় ইতিউতি রিক্সার চলাচল, সকালের তাজা সবজি নিয়ে একটা হাল্কা মেঠো গন্ধ ছড়িয়ে বাজারের দিকে চলে যাওয়া ভ্যান-রিক্সা, মর্নিং-ওয়াকে বেরোনো মাঝবয়েসি কিছু লোকজন, আর একটা-দুটো করে খুলতে থাকা পান-বিড়ির দোকান আর সেখান থেকে ভেসে আসা পুরোনো ট্রানজিস্টারের গান – মনটাকে অনেকদুরে নিয়ে চলে গেল সেদিন, অনেকদিন পরে।

সম্বিত ফিরলো গড়গড়ি দা-র ডাকে – “গুড মর্নিং”।
হাসিমুখে এগিয়ে এলেন গড়গড়ি দা। “কেমন দেখছ শিলিগুড়ি?”।
যেমন দেখছিলাম, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মত ক্ষমতা আমার কোনদিনই ছিলনা। তাই, শুধু বললাম, “দারুণ সুন্দর”।
কিন্তু, ঠিক জানিনা, গড়গড়ি দা-র চোখের কোনায় লেগে থাকা হাসি দেখে মনে হল, তিনি বুঝেছেন আমার বুঝিয়ে বলতে না পারা কথাটা।

মুশকিল হল, এতসব কথা বলতে বলতে কখন যে বেলা গড়িয়ে গেল খেয়ালই করিনি! ওরে, ৮ টা বাজে যে রে, তাড়াতাড়ি কর সব, বেরোতে হবে যে!
হুড়মুড় করে গরম গরম চা, ব্রেড-ওমলেট খেয়ে নিয়ে মালপত্র তুলে ফেলা হল গাড়িতে। ব্যাস, এবার শেষ মূহুর্তের বাঙালীর নিটপিট কোনোরকমে কাটিয়ে উঠে, গাড়ীতে ওঠা। আর...গাড়ী ছাড়া।
দাঁড়ান দাঁড়ান। এক মিনিট।
বিশ্বাস করুন, বাঙালীর, “গাড়ী ছাড়ার জন্যে রেডি” বলা আর সত্যি করে “গাড়ী ছাড়ার” মধ্যে একটা বিশাল তফাৎ আছে।
তো, শেষ পর্যন্ত সেই অসম্ভব কাজটা করে ফেলাই গেল।
গাড়ী আস্তে আস্তে পেরিয়ে গেল শহরের গণ্ডী, হু হু করে চলতে লাগল লম্বা ফাঁকা রাস্তা ধরে, রাস্তার দুধারের ক্রমশ ঘন হতে থাকা লম্বা লম্বা গাছগুলো পিছিয়ে যেতে লাগল, দৃষ্টির বাইরে। জীবনের পেরিয়ে যাওয়া দিনগুলো কি এভাবেই আস্তে আস্তে পেরিয়ে যায় দৃষ্টিসীমার বাইরে? হয়ত। টাটা সুমোর পেছনের সিটে বসে, মুখ ঘুরিয়ে নিলাম সামনের দিকে।

দেখতে দেখতে, গল্প-আড্ডার মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে যেতে লাগল যাত্রাপথ। গড়গড়ি দা আমুদে লোক – পথের ক্লান্তি বুঝতে দেননি একবারও। গড়গড়ি দা-র কল্যানে এই যাত্রাপথটা শুধুই একটা রাস্তা ছিল না, হয়ে উঠেছিল একটা গল্পকথা, একটা চলমান জীবনযাত্রার কাহিনী। মুশকিল হল, আমি আবার চিরকালই পড়াশনোয় কাঁচা, তাই এসব তথ্যজাতীয় জিনিসপত্র ঠিকঠাক মনে রাখতে পারি না। তবু, পরে একবার চেষ্টা করব হয়ত, সেইসব জীবনযাত্রার কাহিনী আপনাদের শোনাবার। আপাতত এটাই বলি, যে হঠাত যখন আমাদের গাড়ীটা একটা সুদুরপ্রসারিত পাহাড়ঘেরা উপত্যকার পাশের সুন্দর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গেল, আর গড়গড়ি দা বললেন – “নেমে পড় সবাই”, বুঝলাম, এসে গেছি আমাদের বহুপ্রতীক্ষিত “হিলে”তে।

পথ চলা

গাড়ী থেকে নেমে, খানিক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম সামনের জঙ্গল-মোড়া পাহাড়টার দিকে তাকিয়ে। ৫ মিনিট, ১০ মিনিট? জানি না, খানিক্ষণ পরে মনে হল, শুরু করা উচিৎ এবার পথচলা।
মানুষের তৈরি শেষ স্থাপত্য, একটা ছোট গেট, যেটা ভার্সে রডোডেনড্রন স্যাংচুয়ারির শুরু নির্দেশ করছে, পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম এক অচেনা পথে। দুধার থেকে নুয়ে পড়েছিল গাছেরা, পথে ছড়িয়ে ছিল তাদের ঝরে পড়া পাতা, কিছু রঙীন, কিছু বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, আর ঘন হয়ে এসেছিল অন্ধকার সেই পথের উপর। কখন যেন এগিয়ে গিয়েছিল বাকিরা, বুঝতে পারিনি। পিঠের ব্যাগটা আর ভারী লাগছিল না। রোজকার ভারী হয়ে আসা হাওয়াতে কষ্ট করে টানা শ্বাস কখন যেন হালকা হয়ে এসেছিল। আর, পা থেমে থাকেনি, ভাবতে হয়নি কিছু তাকে, নিতে হয়নি কোনো পদক্ষেপ, এ রাস্তা এমন এক রাস্তা, যে চলতে বলে, অনুভব করতে বলে, টেনে ধরে না পিছনদিকে, কাউকে।

হাঁটছিলাম। হ্যাঁ। হাঁটছিলাম।
পরবর্তী দুটো দিন, হয়ত বলতে গেলে অনেককিছুই বলার মত ছিল। কাঞ্চনজঙ্ঘা, দুধসাদা পাহাড়চূড়ো, ঘন জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়সারি, আমাদের ট্রেকার্স হাটের কেয়ারটেকার “পুসাই দাজু”, আড্ডা-গল্প, নতুন সহযাত্রীদের সঙ্গে সল্পালাপ – এ সবই ছিল।
কিন্তু, আজ লিখতে বসে, যেটা শুধু মনে পড়ছে, যে আমি হেঁটেছিলাম, অনেক অনেক পথ। আর সেই পথ আমাকে অনেক কিছু বলেছিল। শিখিয়েছিল। জানিয়েছিল।
বলেছিল – এগিয়ে যেতে।
শিখিয়েছিল – বিনম্র হতে।
জানিয়েছিল – না থামতে।
ঝিরঝিরে বয়ে যাওয়া হাওয়া, পাতার সঙ্গে সঙ্গে বুকের মধ্যে শিরশিরানি, পাখিদের অনর্গল কিচিরমিচির - জানি না কেন মন উদাস হয়ে যাচ্ছিল বার বার। পাগল মন, সে কি আর বাঁধা পড়ে থাকে, বার বার ফিরে যায় তার প্রিয় জায়গায়, সে যত সহস্র-যোজন মাইল দুরেই হোক না কেন।

অবশেষে নামার পালা, ফেরার পালা।
এক মনকেমন করা রবিবারের সন্ধ্যেতে ফিরে এলাম শিলিগুড়ি শহরে। গড়গড়ি দা-র থেকে এবার বিদায়ের পালা। চিরাচরিত সেই চোখের কোনে হাসি নিয়ে বললেন, তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। হাসিমুখে গাড়িতে উঠে হাত নাড়তে নাড়তে মিলিয়ে গেলেন ব্যস্ত শহরের মধ্যে, রোজকার মত।

খাণিক্ষণ তাকিয়ে রইলাম যেদিকে চলে গেলেন সেই দিকটায়। একটি সাধারণ লোক, এই শহরের হাজার হাজার লোকেদের মধ্যে একজন, বার বার ফিরে যান পাহাড়ে, অথবা কখনো গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কন্যাকুমারী সফরে, রাত কাটান পথের ধারে তাঁবু খাটিয়ে, জ্বেলেদের থেকে মাছ নিয়ে শিকে গেঁথে আগুনে ঝলসে রান্না করে খেয়ে, আর তারপর আবার ফিরে আসেন দৈনন্দিন জীবনে।
আর, যখন ফিরে যান একেকটা সফর সেরে, বলেননা, আবার দেখা হবে। হাসিমুখে ফিরে যান শুধু।
একজন অসাধারণ অনুভুতিশীল, যথাসময় আড়ালে থেকে জীবনযুদ্ধের কৌশল শিখিয়ে যাওয়া একজন মানুষ, কি সহজে মায়ার বাঁধন কাটিয়ে উঠে ফিরে যান। আবার পরের দিনটা বেঁচে থাকতে, বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে, চোখ মেলে তাকিয়ে দেখতে এই পৃথিবীটাকে।

ফিরে তাকালাম, নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনে ওঠার চলমান সিঁড়িটার দিকে।
একটাই তো মায়ার বাঁধন রয়ে গ্যাছে, সেই অনেক দুরে আমার শহরে। আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম প্ল্যাটফর্মের দিকে - ট্রেনের হুইসল শোনা যাচ্ছে দূর থেকে।

আজকে ফিরে গেলাম, কিন্তু হয়ত কোনদিন ফিরে আসব, এই পাহাড়ে, বা কোনো এক সমুদ্রে, যেদিনকে থাকবে না আর কোনো মায়ার বাঁধন।

সেদিন হয়ত আর ফিরে যাবনা, শুধু থেকে যাবে সব স্মৃতি, আর যত অনুভুতি।